জনতার শাসন! চুরির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে খুন লালগোলায়।

শেষ পর্যন্ত চুরির অভিযোগে ধরা পড়ে গিয়ে জনতার শাসনে গণপিটুনিতে মৃত্যু হল এক যুবকের। বুধবার এ ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় লালগোলার বিরামপুর এলাকার মাঠ লাগোয়া স্থানে। মৃত যুবক বছর ৩৬ এর জাহাঙ্গীর আলম। ঘটনার খবর চাউর হতেই গোটা লালগোলা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে দিন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় পেশায় রাজমিস্ত্রি দুই সন্তানের পিতা ওই যুবক স্থানীয় হরিপুর গ্রামের বাসিন্দা।সপ্তাহ দুয়েক আগে চেন্নাই থেকে পরিযায়ী শ্রমিক এর কাজ সেরে বাড়ি ফিরে আসে বলেই পরিবার সূত্রে জানা যায়। অভাবের সংসারে বর্তমানে জাহাঙ্গীরের এক সন্তান তার দাদুর বাড়িতেই থাকে। এমন পরিস্থিতিতে সবকিছু মোটামুটি ঠিকঠাক চললেও ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার মধ্যরাতে। এলাকা সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীরকে একদল যুবক যারা তাঁর সাগরেদ বলে পরিচিত বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় ঘুরতে যাওয়ার নাম করে। আর তার পরেই ঘটে যাবতীয় বিপত্তি।
রাত পেরিয়ে গেলেও জাহাঙ্গীর আর বাড়ি ফিরে আসেনি। পরবর্তীতে বুধবার জাহাঙ্গীরের বাড়ি থেকে প্রায় আট দশ কিলোমিটার দূরে চাষের জমির পাস থেকে তার ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তড়িঘড়ি স্থানীয়রা পুরো ঘটনা পুলিশকে জানায়।পুলিশ এসে জাহাঙ্গীরকে উদ্ধার করে কৃষ্ণপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসকরা সেখানেই তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এদিকে স্বামীর মৃত্যু সংবাদ পেয়ে তার স্ত্রী রাশিদা বিবি হাসপাতাল ছুটে গিয়ে সেখানে স্বামীর দেহ শনাক্ত করে। আরোও জানা যায়, জাহাঙ্গীর তার সাগরেদ সঙ্গে চুরির উদ্দেশ্যে এলাকার পরপর দুটি বাড়িতে হানা দেয়। এর পরেই রাতেই সেখান থেকে পালানোর সময় তারা পাশের পাটের জমিতে লুকিয়ে পড়ে। অবশেষে বাড়ির মালিকেরা তাদের ধাওয়া করে ধরে ফেলে। বাকিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও, জাহাঙ্গীর ধরা পড়ে যায়। তারপরে উত্তেজিত জনতা তাকে সেখানেই পিটিয়ে নির্মমভাবে খুন করে বলে অভিযোগ। মৃতের স্ত্রী ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সরব হয়েছে। দেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের পাঠিয়েছে পুলিশ।